Sunday, November 1, 2015

জেলহত্যা দিবস , আমরা কতটুকু জানি?

এ মাসের ৩ নভেম্বর, জেলহত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নিভৃত প্রকোষ্ঠে বন্দি অবস্থায় হত্যা করা হয় জাতীয় ৪ নেতাকে; সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী এবং আবু হেনা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। এঁরা কারা? এই চার বঙ্গ সন্তানই বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাঁরা যেমন ছিলেন নির্ভীক, তেমন সৎ, ঠিক তেমনই দুরদৃষ্টি সম্পন্ন। এই কলঙ্কিত হত্যাকান্ডই প্রমাণ করে যে, বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড ছিল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। কারন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীরা ঠিকই জানত, এই চারজন যদি বেঁচে থাকেন, তবে ঠিকই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে পারবে, যেমন তাঁরা দিয়েছিল ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে।

হত্যাকারীদের দিক থেকে এটি ছিল একটি সফল অভিযান। কারন, এই হত্যাকান্ডের মধ্যদিয়েই শুরু হয় বাংলাদেশে অন্ধকার যুগ। যে যুগে, নিষিদ্ধ হয়ে যায় হত্যাকারীদের বিচার, রাজাকাররা হয়ে যায় "দেশ প্রেমিক", নিষিদ্ধ হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, সমঅধিকার, গণতন্ত্র, শোষিতের অধিকার, ইত্যাদি। এর পর থেকেই তো শুরু হয় একের পর এক মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা হত্যা। ফাঁসি দেওয়ারও সময় ছিল না, গুলি করে হত্যা করা হয় হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা সেনা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিনত হয় মেধাশুন্য অস্ত্রবাজে, পাকিস্থান সেনাবাহিনীর 'বি-টিম' হিসাবে। তারা দখল করে জনগণের ক্ষমতা। যে দারোয়ানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, বাইরের গেট পাহারা দেওয়ার জন্য, তারা হয়ে যায় বাড়ির কর্তা! ১৫ বছরের এই অন্ধকার যুগে নষ্ট হয়ে যায় বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় সহ সব প্রতিষ্ঠান।
ভাবতে অবাক লাগে, সেই অন্ধকার যুগের ২০ বছর পরেও বাংলাদেশে মেডিকেল কলেজের প্রধান থাকেন একজন সেনাকর্মকর্তা! এথেকে আন্দাজ করা যায়, এখনও সেই অন্ধকার আমরা পুরোপুরি দুর করতে পারিনি।

তাই, মানব সভ্যতার ইতিহাসে বেদনাময় এক কলঙ্কিত দিন। বাঙালি জাতিকে নেতৃত্ব শূন্য করতে ৩৫ বছর আগে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেই ক্ষান্ত ছিল না, গুলিবিদ্ধ নিথর দেহকে বেয়নেট দিয়ে খুচিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে ’৭১-এর পরাজয়ের জ্বালা মিটিয়েছিল। মুলত, তাঁরা নিজেরাই নিজেদের মৃত্যুদন্ডদিয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে।

খুনিরা তোমরা জেনে রাখ, এই নৃশংস হত্যাকান্ডে আমারা মুষড়ে পরব না, ভয় পাব না। এই হত্যাকান্ড আমাদের আলোড়িত করে। এই হত্যাকান্ড আমাদের অনুপ্রানিত করে দেশের জন্য কাজ করতে, নি:শ্বার্থ ভাবে মানুষের উপকার করতে। আমার গর্বিত আমাদের পুর্বপুরুষ নিয়ে।

Monday, October 26, 2015

কিভাবে অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্রে তথ্য হালনাগাদ করবেন

নিত্যদিনের নানা কাজে ভোটার আইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন দেশের সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে প্রথমবারের মতো ছবিসহ জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়। একই সঙ্গে ভোটার তালিকাও হালনাগাদ করা হয়।দেশব্যাপী এই প্রকল্প পরিচালনা এবং তথ্য সংরক্ষণের সময় বেশ কিছু ভুল তথ্য চলে এসেছে বা এই কয়েক বছরে অনেকের ঠিকানাসহ অন্যান্য তথ্যে পরিবর্তন এসেছে। এত দিন নাগরিকেরা ঢাকার নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের অফিসে যোগাযোগ করে তাঁদের তথ্য হালনাগাদ করতে পারতেন। কিছুদিন হলো ইন্টারনেটে এ কাজটি করা যাচ্ছে। পাশাপাশি নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করার ব্যবস্থাও রয়েছে এই ওয়েবসাইটে।
তথ্য হালনাগাদ করার জন্য ভোটারের বর্তমান কার্ডের নম্বর, একটি কার্যকর মোবাইল নম্বর, জন্মতারিখ ও ঠিকানা সম্পর্কিত তথ্য প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে নিম্নোক্ত ধাপ গুলো অনুসরণ করতে হবে।
ধাপসমুহ
  • প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী পূরণ করে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
  • কার্ডের তথ্য ও মোবাইলে প্রাপ্ত এক্টিভেশন কোড সহকারে লগ ইন করতে হবে।
  • তথ্য পরিবর্তনের ফর্মে তথ্য হালনাগাদ করে সেটির প্রিন্ট নিতে হবে।
  • প্রিন্ট-কৃত ফর্মে স্বাক্ষর করে সেটির স্ক্যান-কৃত কপি অনলাইনে জমা দিতে হবে।
  • তথ্য পরিবর্তনের স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় দলিলাদি কালার স্ক্যান কপি অনলাইনে জমা দিতে হবে।
নিবন্ধনকৃত ব্যক্তি যে সকল সুবিধা গুলো পাবেন
  • নিজস্ব প্রোফাইলের তথ্য
  • নির্বাচন-কালীন ভোটকেন্দ্র সম্পর্কিত তথ্য
  • কার্ডের তথ্য পরিবর্তন/হালনাগাদ/সংশোধনের জন্য আবেদন
  • ঠিকানা অথবা ভোটার এলাকা পরিবর্তন/হালনাগাদ/সংশোধনের জন্য আবেদন
  • হারানো বা নষ্ট কার্ড পুনঃমূদ্রনের আবেদন
  • ছবি,স্বাক্ষর ইত্যাদি পরিবর্তনের এপয়েন্টমেন্ট করা
  • আবেদনপত্রের বর্তমান অবস্থা ইত্যাদি...
লিঙ্ক
https://services.nidw.gov.bd/registration

জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধনের  যে যে কাগজপত্রের প্রয়োজন
(১) জাতীয় পরিচয়পত্র-ধারীর নাম (বাংলা/ইংরেজি) এবং জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে, উক্ত সংশোধনের স্বপক্ষে নিম্নবর্ণিত কাগজপত্র/তথ্যাদি জমা দিতে হবে, যথা:-
(ক) শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম এসএসসি/সমমান হলে এসএসসি/সমমান সনদপত্র;
(খ) শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম এসএসসি/সমমান না হলে এবং সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত কিংবা সংবিধিবদ্ধ কোনও সংস্থায় চাকুরীরত হলে, চাকুরী বই/মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও);
(গ) অন্যান্য ক্ষেত্রে, জাতীয় পরিচয়পত্র-ধারীর পাসপোর্ট/জন্ম নিবন্ধন সনদ/ড্রাইভিং লাইসেন্স/ট্রেড লাইসেন্স/কাবিননামার সত্যায়িত অনুলিপি;
(ঘ) নামের আমূল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে, উল্লেখ্য পরিবর্তনের যথার্থতা সম্পর্কে গ্রহণযোগ্য দলিলাদি [এসএসসি সনদ/পাসপোর্ট/চাকুরী বই/মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও)/ড্রাইভিং লাইসেন্স, যার ক্ষেত্রে যেটি প্রযোজ্য] ছাড়াও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফ-নামা ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির কপি;
(ঙ) ধর্ম পরিবর্তনের কারণে নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফ-নামা ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির কপি এবং আবেদনের যথার্থতা সম্পর্কে গ্রহণযোগ্য দলিলাদি (শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র/পাসপোর্ট/ড্রাইভিং লাইসেন্স/জন্ম নিবন্ধন সনদ, ইত্যাদি যার ক্ষেত্রে যেটি প্রযোজ্য)।
(২) বিবাহ বা বিবাহ বিচ্ছেদ বা অন্য কোন কারণে কোনও মহিলা তাহার নামের সাথে স্বামীর নামের অংশ (টাইটেল) সংযোজন বা বিয়োজন বা সংশোধন করিতে চাহিলে, তাকে কাবিননামা/তালাকনামা/মৃত্যু সনদ/ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফ-নামা/বিবাহ বিচ্ছেদ ডিক্রির সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হইবে। এক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, প্রয়োজনে, সরেজমিন তদন্ত করতে পারবেন।
(৩) পিতা/মাতার নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে, জাতীয় পরিচয়পত্র-ধারীর এসএসসি, এইচএসসি বা সমমান সনদপত্র (যদি তাতে পিতা/মাতার নাম উল্লেখ থাকে) এবং জাতীয় পরিচয়পত্র-ধারীর পিতা, মাতা, ভাই ও বোনের জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, প্রয়োজনে, সরেজমিন তদন্ত করতে পারবেন।
(৪) পিতা/মাতার নামের পূর্বে “মৃত” অভিব্যক্তিটি সংযোজন বা বিয়োজন করিতে চাইলে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, পিতা/মাতার মৃত্যু সনদের সত্যায়িত অনুলিপি বা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি ও জীবিত থাকার সমর্থনে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান/পৌর মেয়র/কাউনিসলরের প্রত্যয়ন-পত্র জমা দিতে হবে।
(৫) ঠিকানা (বাসা/হোল্ডিং/গ্রাম/রাস্তা/ডাকঘর) সংশোধনের ক্ষেত্রে, সঠিক ঠিকানার স্বপক্ষে বাড়ির দলিল/টেলিফোন, গ্যাস বা পানির বিল/বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্র/বাড়িভাড়া রশিদের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হবে।
(৬) রক্তের গ্রুপ সংযোজন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে, তার স্বপক্ষে ডাক্তারি সনদপত্র জমা দিতে হবে।
(৭) শিক্ষাগত যোগ্যতা সংশোধনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র-ধারীর সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হবে।
(৮) টিআইএন/ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর/পাসপোর্ট নম্বর সংশোধনের ক্ষেত্রে, প্রয়োজনে, টিআইএন সনদ/ড্রাইভিং লাইসেন্স/পাসপোর্টের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হবে।
(৯) অন্যান্য যে কোনও সংশোধনের ক্ষেত্রে, উপরে উল্লেখিত সংশোধনের স্বপক্ষে উপযুক্ত সনদ, দলিল ইত্যাদির সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হবে।
(১০) আবেদনপত্রের সাথে দাখিল-কৃত অনুলিপিসমূহ নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিবর্গ সত্যায়ন করতে পারবেন: (ক) সংসদ সদস্য, (খ) স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, (গ) গেজেটেড সরকারি কর্মকর্তা, এবং (ঘ) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান।
বিশেষ দ্রষ্টব্য
নষ্ট বা হারানো পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে আগস্ট ২০১৫ পর্যন্ত কোন প্রকার ফী গুনতে হত না। ১লা সেপ্টেম্বর ২০১৫ থেকে নষ্ট বা হারানো পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে একটি নির্ধারিত ফী দিতে হতে পারে। ফী গুলো নিম্নরুপঃ
(১)জাতীয় পরিচয়পত্র নবায়নের জন্য নাগরিকদের (সাধারণ) ১০০ এবং জরুরি ক্ষেত্রে ১৫০ টাকা ফি দিতে হবে।
(২)হারানো বা নষ্ট হওয়ার কারণে নতুন জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য প্রথম বার  সাধারণ ২০০ টাকা, জরুরি প্রয়োজনে ৩০০ টাকা লাগবে। দ্বিতীয় বার সাধারণ ৩০০ টাকা, জরুরি প্রয়োজনে ৫০০ টাকা লাগবে। পরবর্তী যেকোনো সময়ের জন্য সাধারণ ৫০০ টাকা এবং জরুরি ক্ষেত্রে এক হাজার টাকা ফি দিতে হবে।
উল্লিখিত ফি নির্দিষ্ট খাতে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে বা নির্বাচন কমিশনের সচিবের অনুকূলে পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে বা কমিশন কর্তৃক নির্দিষ্ট নম্বরে মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।
প্রাথমিকভাবে সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। সবাই সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ট্রেজারি চালান করতে পারবে। পর্যায়ক্রমে অন্য সব ব্যাংকের সঙ্গেও চুক্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের

স্মার্ট ন্যাশনাল আইডি কার্ড

নকল রোধে জাতীয় পরিচয়পত্রকে আধুনিকভাবে তৈরি, যন্ত্রে পাঠযোগ্য জাতীয় পরিচয়পত্রকেই স্মার্টকার্ড বা স্মার্ট ন্যাশনাল আইডি কার্ড বলে। বর্তমানে তৈরি কাগজের লেমিনেটেড পরিচয়পত্রের চাইতে এটি হবে অনেক টেকশই এবং এটি নকল করা হবে প্রায় অসম্ভব। মুলত বহুমুখী নাগরিক সুবিধা দেওয়ার জন্য এ ধরনের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রায় ২৫টি ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে এই স্মার্ট পরিচয়পত্র ব্যবহার করা যাবে। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এটিতে তিন স্তরের ২৫টির মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। প্রথম স্তরের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যটি  খালি চোখে দৃশ্যমান, দ্বিতীয় স্তরের বৈশিষ্ট্যগুলো কেবলমাত্র নির্দিষ্ট যন্ত্রাংশের মাধ্যমেই দেখা সম্ভব হবে এবং সর্বশেষ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি জানার জন্য প্রয়োজন হবে ল্যাবরেটরির ফরেনসিক টেস্ট । এটিকে আন্তর্জাতিক ভাবে গ্রহনযোগ্য করার জন্য প্রয়োজন হবে আটটি আন্তর্জাতিক সনদপত্র ও মানপত্র।
বিভিন্ন গনমাধ্যম থেকে জানা গেছে, প্রায় দুইশ’ টাকা সমমূল্যের স্মার্টকার্ড প্রথমে সব নাগরিককেই কোনরকম ফী ছাড়াই বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। কার্ডেটি ১০ বছর মেয়াদী হবে। এরপর কার্ড নবায়নের জন্য খরচ হবে ২৫০ টাকা। আর জরুরি ভিত্তিতে প্রদানের খরচ পরবে ৫০০ টাকা। যদি কেউ কার্ডটি হারিয়ে ফেলে বা নষ্ট করে ফেলে তাহলে নতুন কার্ডের জন্য প্রথমবারের ফি হবে (সাধারণ) ৫০০ টাকা। আর জরুরি ভিত্তিতে কার্ডটি পেতে হলে গুনতে হবে ১০০০ টাকা। দ্বিতীয়বার হারালে খরচ হবে ১০০০ টাকা। আর জরুরি ভিত্তিতে ২০০০ টাকা। আর যদি কেউ দ্বিতীয়বারের পর কার্ড হারায় বা নষ্ট করে ফেলে তাহলে তাকে জরিমানা গুনতে হবে। সেক্ষেত্রে (সাধারণ) ২০০০ আর জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনের জন্য গুনতে হবে ৪০০০ টাকা। সকল প্রকার লেনদেন ইসি সচিব বরাবর পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে করতে হবে।
দেখতে যেমন হবে

যেসব সুবিধা থাকছে স্মার্ট কার্ড
২০টিরও বেশি নাগরিক সেবায় উন্নতমানের এই স্মার্ট কার্ডটি ব্যবহারের করা যাবে।
উল্লেখযোগ্য সুবিধা সমুহের মধ্যে রয়েছে-
১। আয়করদাতা শনাক্তকরণ,
২। ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তি ও নবায়ন,
৩। পাসপোর্ট প্রাপ্তি ও নবায়ন,
৪। চাকরির জন্য আবেদন,
৫। স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি কেনাবেচা,
৬। ব্যাংক হিসাব খোলা ও ঋণকিস্তি,
৭। সরকারি বিভিন্ন ভাতা উত্তোলন,
৮। সরকারি ভর্তুকি-সহায়তা,
৯। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি,
১০। বিমানবন্দরে ই-গেট (আসা-যাওয়া) সুবিধা,
১১। শেয়ার আবেদন-বিও একাউন্ট খোলা,
১২। ট্রেডলাইসেন্স প্রাপ্তি, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন,
১৩। বিবাহ-তালাক রেজিস্ট্রেশন,
১৪। গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া,
১৫। মোবাইল-টেলিফোন সংযোগ নেওয়া,
১৬। বিভিন্ন ধরনের ই-টিকেটিং,
১৭। সিকিউরড ওয়েব লগ ইন,
১৮। ই-ফরম পূরণে নাগরিকের সঠিক ও নির্ভুল তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযোজন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্মৃতি জাদুঘর

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের যে বাড়িতে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটিয়েছেন, স্বাধিকারের সংগ্রামে জাতিকে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন, সে বাড়িটি আজ তাঁর নানা স্মৃতিচিহ্ন বহন করছে। বর্তমানে এটি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর।
 
 
অবস্থান ও ঠিকানা
লেক সার্কাস এর পশ্চিম পাশে এই জাদুঘরটির অবস্থান।
ঠিকানা-
বঙ্গবন্ধু ভবন, বাড়ি# ১০, রোড# ৩২ (পুরাতন), ১১ (নতুন)।
ফোন- ৮৮-০২-৮১১০০৪৬
ফ্যাক্স- ৮৮-০২-৮৩১৩৮৬৬
 
সময়সূচী
বুধবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ৬ দিন সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত খোলা থাকে এ জাদুঘরটি। এটিতে সাধারণত শুক্রবার ও শনিবার ভিড় বেশি হয়।
 
টিকেট
এই জাদুঘরটির একটি মাত্র টিকেট কাউন্টার রয়েছে। ভিড় থাকলে লাইন ধরে টিকেট কাটতে হয়। টিকেটের মূল্য ৫ টাকা। ৩ বছরের কম বয়সীদের কোন টিকেটের প্রয়োজন হয় না। আর শুধুমাত্র শুক্রবার ১২ বছরের কম বয়সীরা টিকেট ছাড়া প্রবেশের সুযোগ পায়।
 
পটভূমি
১৯৬১ সালের ১ লা অক্টোবর থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের এই  বাড়িতে বসবাস করতে শুরু করেন। ১৯৬২ সালের আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফার আন্দোলন, ১৯৭০ সালের সাধারন নির্বাচন, ১৯৭১ এর শুরুতে অসহযোগ আন্দোলন, এই সবগুলো ক্ষেত্রেই শেখ মুজিবুর রহমানের পরিকল্পনা প্রনয়ন, দলের নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময়, সাধারণ মানুষের দুঃখ কষ্টের কথা শোনা এই সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু ছিল ৩২ নম্বরের এই বাড়িটি। দেশী-বিদেশী সাংবাদিকরা এই বাড়িতে ভিড় করেছেন ৭১ এর উত্তাল দিনগুলোতে।
“এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” – ৭ই মার্চের বিখ্যাত সেই ভাষণের রুপরেখাটি বঙ্গবন্ধু তৈরি করেছিলেন এখানকার কনফারেন্স টেবিলে বসে। স্বাধীনতা লাভের পর বঙ্গবন্ধু যখন স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপতি তখনও তিনি এই বাড়িটি থেকে রাষ্ট্রীয় কাজকর্ম পরিচালনা করতে থাকেন। এই বাড়ি থেকে অসংখ্যবার পাকিস্তানী সৈন্যরা তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। সর্বশেষে গ্রেপ্তার করেছিল ৭১ এর ২৫ শে মার্চ রাতে। বলা হয়ে থাকে তিনি ধরা দিয়েছিলেন। কারণ তিনি জানতেন তাঁকে না পেলে এই সৈন্যরা নিরস্ত্র জনগণের উপর নারকীয় তান্ডব চালাবে।
আর এই বাড়িতেই তাঁকে স্বপরিবারে প্রাণ দিতে হয়েছিল ১৯৭৫ এর ১৫ ই আগষ্ট।
১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কাছে বাড়িটি হস্তান্তর করা হয়। শেখ হাসিনা বাড়িটিকে জাদুঘরে রুপান্তরের জন্য বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করেন।  বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট বাড়িটিকে জাদুঘরে রুপান্তরিত করে এবং নাম দেয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর। কয়েক ধাপে জাদুঘরটির উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হওয়ার  কথা রয়েছে। প্রথম এবং বর্তমান পর্যায়ে একতলায় দুটি এবং দ্বিতীয় তলায় তিনটি কক্ষ জাদুঘরের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও কক্ষযুক্ত হবে।  মূল ভবনের পেছনে চার তলা একটি ভবন নির্মানের কথা রয়েছে জাদুঘরের জন্য। নতুন ভবনে একটি লাইব্রেরী ও অডিটোরিয়াম রয়েছে। তবে এখনো চালু করা হয়নি।
 
দর্শনীয় বিষয়
জাদুঘর ভবনটিতে ঢুকে এক তলাতেই চোখে পড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি। একতলায় জাদুঘরটির প্রথম কক্ষে ছবির মাধ্যমে ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে বলা যায়। সেই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সাথে বঙ্গবন্ধুর আলাপচারিতা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের আলোকচিত্র রয়েছে এখানে। এই কক্ষটি ছিল ড্রইং রুম। যেখানে বসে বঙ্গবন্ধু দেশ-বিদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সাথে বৈঠক করেছেন। এই কক্ষের পাশের কক্ষটি ছিল শেখ মুজিবুর রহমানের পড়ার ঘর। এখানে বসে তিনি
লেখালেখিও করতেন। এখান থেকেই তিনি ৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠিয়েছিলেন। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠার সময় এখনো চোখে পড়বে সেই রাতের তান্ডবলীলার নিদর্শন। এছাড়া এখানে শিল্পীর তুলিতে আঁকা বঙ্গবন্ধুর গুলিবিদ্ধ অবস্থার একটি প্রতিকৃতি রয়েছে।
দোতলায় গিয়ে প্রথমেই যে কক্ষটি পাওয়া যায় সেটি ছিল বঙ্গবন্ধুর বাসকক্ষ। এর পরের প্রথমে কক্ষটি ছিল তাঁর শোবার ঘর, তারপরের কক্ষটি কক্ষটি শেখ রেহানার শোবার ঘর। এ কক্ষগুলোয় এখন প্রদর্শিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারবর্গের নানা স্মৃতি চিহ্ন। এটি কেবল একটি পারিবারের স্মৃতি চিহ্ন নয়। এগুলো একটি জাতির ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
এখানে থাকা বিভিন্ন প্রদর্শন সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে শেখ রাসেলের খেলার জিনিস। যেমন- বল, হিকষ্টিক, ব্যাট, হেলমেট, সুলতানা কামালের সঙ্গে তার ছবি ইত্যাদি। এছাড়া বঙ্গবন্ধু ব্যবহৃত পাইপ, চশমাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তো রয়েছেই। আরও নিদর্শন প্রদর্শনীর জন্য আনার কথা রয়েছে।
 
কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য
  • বর্তমানে জাদুঘরটি সরকারী নিয়ন্ত্রনাধীন।
  • অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে।
  • নিরাপত্তার জন্য পুলিশ এবং আধা সামরিক বাহিনী নিয়োজিত আছে।
  • ভেতরে খাবার, মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, ব্যাগ ইত্যাদি নিয়ে প্রবেশ করা বারণ। এসব কাউন্টারে জমা দিয়ে একটি টোকেন নিয়ে প্রবেশ করতে হয়।
  • জাদুঘরে থাকা বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়।
  • গাড়ি পার্কিং সুবিধা নেই।
  • জাদুঘরটিতে প্রবেশ করা এবং বের হওয়ার জন্য পূর্ব ও পশ্চিম দুটি আলাদা পথ রয়েছে।
  • জাদুঘরটির পূর্ব দিকে ইসলামী ব্যাংকের একটি এটিএম বুথ রয়েছে।
  • জাদুঘরটিতে প্রবেশের সময় হাতের ডান পাশে টয়লেট পাওয়া যায়। এখানে পুরুষ-মহিলা উভয়ের জন্য এব্যবস্থা রয়েছে।
  • জাদুঘরটিতে গাইডের ব্যবস্থা আছে।
  • তিন তলা ভবনটির একতলায় অফিস কক্ষ এবং একটি ক্ষুদ্র বিক্রয় কেন্দ্র আছে। এই বিক্রয় কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বিভিন্ন বই এবং ম্যাগাজিন বিক্রি হয়